
২০২৪-২৫ সালে সারাদেশে সংঘটিত মাজারে হামলা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সুফি-সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাকাম। ০২ ফেব্রুয়ারি রোজ সোমবার দুপুর ৩ ঘটিকায় ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অপ্রমাণিত ৩৭টি হামলার মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে। ৯৭টি হামলার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই ৬৪টি হামলা সংঘটিত হয়েছে যা মোট ঘটনার দুই তৃতীয়াংশ।
হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ১টি হামলা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে। হামলার শিকার ৪৪টি মাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সমসংখ্যক মাজারে বাৎসরিক উরস আয়োজন বন্ধ রয়েছে।
মাকাম’র পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিডিও বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩টি ঘটনায় “নারায়ে তাকবির/লিল্লাহি তাকবির-আল্লাহু আকবার” স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হামলাগুলোতে প্রধানত ‘তৌহিদী জনতা’র নেতৃত্ব শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
হামলার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে ১২টি রাজনৈতিক দলকে মাকাম’র পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
মাকাম’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করেন মাকাম’র কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ আবু সাঈদ।
উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক তাহমিদাল জামি, আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্ট’র প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজ’র সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাকাম রিসার্চ টিমের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার ও মুনীর উদ্দিন আহমদ, হামলার শিকার মুর্শিদপুর দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা মতিউর রহমান, চাঁদপুরী শাহ দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা গোলাম জিলানীসহ প্রমুখ।