কর্ণফুলীর জুয়েল অপহরণ মামলা: চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি আদালত, পুনঃতদন্তে ডিবিকে নির্দেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ব্যবসায়ী শহিদুল আলম জুয়েল অপহরণ মামলায় ঘটনার প্রায় সাত মাস ২৯ দিন পর তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও তা গ্রহণ করেনি আদালত। বাদির নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এমএম) আদালত–৫ এর বিচারক ফাহমিদা সাত্তার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি পুলিশের আদালত প্রসিকিউশন ইন্সপেক্টর নুর হোসেন মামুন।

একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে ৩০ অক্টোবর নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কে এম নাজিবুল ইসলাম তানভীর আলোচিত এ অপহরণ ঘটনায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বাদিপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

বাদি জুয়েলের অভিযোগ, মামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের নাম আড়ালে রেখে তদন্ত কার্যক্রম এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত তথ্য সত্য উদঘাটিত না হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এজাহারে নাম থাকা আটজন আসামির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লিখিত ব্যক্তিরা হলেন—মো. মাঈন উদ্দিন, মো. শাহেদুর রহমান শাহেদ, মির্জা আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক মেম্বার, জাফর আহমদ, মো. ইমরান পাটোয়ারী, আব্দুর শুক্কুর ও জহিরুল আলম।

  • প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাদীসহ পাঁচজন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হলেও অপহরণের সময় কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন কিংবা কল ডিটেইলস বিশ্লেষণেও এজাহারভুক্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে অপহরণের ঘটনাকে ‘সত্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে বলা হয়।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আসামি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৮৫/১০৯/৩৬৫ ধারায় রুজু হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই, এসব ধারায় কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনযোগ্য।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ি, সিএনজি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর যথাযথ যাচাই ও জব্দ তদন্তে প্রতিফলিত হয়নি।

ভুক্তভোগীর পিতা শাহ আলম বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করা হয়নি। তার ভাষায়, “যথাযথ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারত।”

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)-এর মহাসচিব জিয়া হাবীব আহসান বলেন, তদন্তে অসঙ্গতি থাকলে বাদির নারাজি আবেদন করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। আদালত সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলের ছবি, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজের মুখ শনাক্তকরণ, ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ ও সংশ্লিষ্ট চালকদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত তথ্য নথিতে প্রতিফলিত হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • সানজার অনলাইন নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *