
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। রোববার নগরীর জামালখান এলাকার লিচুবাগানে একটি নালা পরিষ্কারের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নগরীর প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামালখান থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, ড্রেন পরিষ্কার করা সম্ভব হলে বর্ষাকালে জমে থাকা পানি দ্রুত নালা হয়ে খাল এবং পরে নদীতে প্রবাহিত হবে। পাশাপাশি খাল সংস্কার কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে, যাতে সমন্বিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়।
মেয়র বলেন, গত বছর খাল-নালা পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবার সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করতে পারলে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।
জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসীর অসচেতনভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এজন্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে জরিমানা ও দৃশ্যমান শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রায় ৫০০টি ছোট নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর ১৪৮টি নালা পরিষ্কার করা হয়েছিল।
মেয়র জানান, নালা পরিষ্কারের পর মাটি পাশে ফেলে না রেখে দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নালা ও ম্যানহোলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বেষ্টনী স্থাপন করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের এ কার্যক্রম তদারকিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, এ অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
- নিজস্ব প্রতিবেদক