আনোয়ারায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প এলাকায় সাঁকো ভাঙার অভিযোগ, নেপথ্যে বাল্কহেড, নৌকায় পারাপার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ইছামতি খালের ওপর ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬-ভেন্টের ‘বাকখাইন–কেঁয়াগড় রেগুলেটর’ প্রকল্প এলাকায় বাঁশের একটি সাঁকো ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের সুবিধার্থে সাঁকোটি অপসারণ করা হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী ও নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, খালের মাঝখানে সাঁকোর অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের নৌকায় করে পারাপার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের অভিযোগ, চাতরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাসান তারেক গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সাঁকোটি ভেঙে ফেলেন, যাতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. হাসান তারেক বলেন, “সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।

কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেইক আইডি থেকে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সাঁকোর বিষয়ে সুইচ গেটের দায়িত্বে থাকা জমির মালিক ভালো বলতে পারবেন।”

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ইছামতি খালের ওপর ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬-ভেন্টের ‘বাকখাইন–কেঁয়াগড় রেগুলেটর’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

“জুলাই–৩৬ স্মৃতি’ নামে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন জুলাইযোদ্ধা ও সাবেক সমন্বয়ক জোবাইরুল আলম মানিক। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আধুনিক নকশায় নির্মিত রেগুলেটরটির কাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হলে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, নির্মাণসামগ্রী অপরপ্রান্তে নেওয়ার সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের জন্য সেটি ভেঙে ফেলেছেন। তবে এতে নির্মাণকাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহিন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *