সম্পদের তথ্য ফাঁস: কোন গায়েবি মামলা নেই, আয়ে নগদ, স্বর্ণ, সম্পদ ও ব্যবসা ; চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের হলফনামা

চট্টগ্রাম-১৩ (কর্ণফুলী-আনোয়ারা) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের হলফনামায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। প্রায় ৮১ বছর বয়সী সাবেক সংসদ সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা, শহরে থাকেন খুলশী জাকের হোসেন রোডে।

 

চমকপ্রদ বিষয় হলো, গত ১৬ বছরে বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী একের অধিক গায়েবি মামলার আসামি হলেও সরওয়ার জামাল নিজাম কখনো এত বেশি গায়েবি মামলায় অভিযুক্ত হননি। তবে ২০০৮ সালে খুলশী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাতে (মামলা নং ৩৫(২)২০০৮, স্পেশাল মামলা নং ১৩/২০০৮) তিনি খালাস পেয়ে মামলা নিষ্পত্তি হয় ২০২৫ সালে।

 

বর্তমানে নিজের পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা চালান। তিনি শেয়ারস এন্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তাঁর স্ত্রী নাজনিন নিজাম একই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

 

হলফনামায় প্রকাশিত আয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎসে দেখা গেছে। তাঁর কৃষিখাত বার্ষিক ৪৫ হাজার টাকা, বাড়ি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি হতে ২৩ লাখ ৬১ হাজার ২৮৬ টাকা, ব্যবসা হতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকা

ব্যাংক, শেয়ার ও বন্ড: ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯১ টাকা।

 

অস্থাবর সম্পদে নগদ অর্থ দেখা গেছে স্বামী নিজামের ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার, স্ত্রীর ১৮ হাজার টাকা। ব্যাংক জমা স্বামীর ২৩ লাখ ৯৬ হাজার, স্ত্রীর ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। শেয়ার ও বন্ডে স্বামী ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, স্ত্রী ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

ক্রিপ্টো বিনিয়োগে স্বামী ৪৪ লাখ, স্ত্রী ১০ লাখ টাকা।

 

স্থাবর সম্পদে কৃষিজমি আছে স্বামী ১ হাজার ডেসি (৭২ হাজার টাকা), স্ত্রী ৯০ ডেসি (৪০ হাজার টাকা)

অকৃষিজমি আছে স্বামীর ১ লাখ ৭৫ হাজার, স্ত্রী ১১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে স্বামী ৩ কোটি ৯ লাখ, স্ত্রী ৫ কোটি ৭৭ লাখ

গাড়ি ও যানবাহনে ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণ আছে স্বামীর ৫ ভরি, স্ত্রী ১০ ভরি। উল্লেখযোগ্যভাবে, দম্পতির নামে কোনো বিদেশি সম্পদ বা আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

 

সরওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১২ ও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। হলফনামা হলো প্রার্থীর শপথপত্র, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য, সম্পদ ও দায়-দেনা, মামলা এবং আয়ের উৎস স্পষ্টভাবে জানাতে হয়।

 

ভুল তথ্য দিলে প্রার্থীকে নির্বাচনী যোগ্যতা হারাতে হতে পারে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রার্থীর সম্পদ ও আয়ের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য অপরিহার্য।

  • কর্ণফুলী প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *